মোঃ শাহাদত হোসেন,চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রধানঃ
চট্টগ্রামে প্রতিদিন করোনা উপসর্গের রোগী বাড়লেও নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদানে অস্বাভাবিক বিলম্বের অভিযোগ বাংলাদেশ ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) বিরুদ্ধে।নমুনা পরীক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে বিশেষায়িত এ হাসপাতাল।উপসর্গ প্রকাশ পাওয়া রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে রোগী নিজে বা তার স্বজনরা বারবার ফোন করলেও নির্ধারিত টিমের সাড়া মিলছে না।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার মেশিনের ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা থেকে বিআইটিআইডি দিনে গড়ে আড়াই থেকে তিনশ’ রোগীর নুমনা সংগ্রহ করছে।অথচ দিনে রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে ১৩০ থেকে ৪০ জনের।এ চাপ মোকাবেলায় আজ থেকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন স্থাপিত করোনা ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।তখন পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।কথা হয় চট্টগ্রাম বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এমএ হাসানের সঙ্গে।তিনি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানে বিলম্বের কথা স্বীকার করে প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, প্রতিদিন আড়াইশ’ থেকে তিনশ’জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।কিন্তু হাসপাতালে মেশিনের ক্যাপাসিটির সীমাবদ্ধতার কারণে গড়ে প্রতিদিন ১৪০টি রিপোর্ট দেয়া যাচ্ছে।তবে চমেক হাসপাতাল ও সিভাসুতে পরীক্ষা শুরু হলে চাপ কমবে। পরিস্থিতির উন্নতি হবে।সূত্র বলছে, চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত হওয়া এক নারীর পাশের বাসার ৫ পরিবারের কারও নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি গত ২ সপ্তাহে।নগরীর পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন করোনা আক্রান্ত ওই নারী।ওই নারীর দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ঝুঁকিতে পড়েছেন পাশের ৫ ভাড়াটিয়া পরিবারের ১২ সদস্য। ৮ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ওই নারীর।এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল আক্রান্ত নারীর পরিবারের বাকি আটজনের নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি।তার মধ্যে আরও এক নারীর করোনা শনাক্ত হয়।বর্তমানে আক্রান্ত দু’জনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।২৯ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ বুধবার শাপলা আবাসিক এলাকায় করোনা শনাক্ত হওয়া নারীর বাসার মালিক পক্ষের সফুরা আক্তার বলেছেন, আমরা ওই নারীর পাশাপাশি থাকি।আমরা ৫ পরিবার দুই চুলায় রান্না করি। ওই নারী শনাক্ত হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ‘লকডাউন’ করে রেখেছে।কিন্তু আমাদের মধ্যে আর কেউ আক্রান্ত কিনা তার কোনো খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, করোনা উপসর্গ পাওয়া গেলে ধীরে ধীরে সবার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।চট্টগ্রামে গণমাধ্যমের এক কর্মীর করোনা উপসর্গ দেখা দিলে বিআইটিআইডিতে ফোন করেন নমুনা সংগ্রহের জন্য।এরই মধ্যে ৩ দিন পার হয়েছে, কোনো সাড়া মেলেনি।আর নমুনা সংগ্রহ করার পর রিপোর্ট দিতে লেগে যাচ্ছে এক সপ্তাহ।করোনা উপসর্গ নিয়ে ফোন করার পর নমুনা সংগ্রহকারীদের দেখা এবং রিপোর্ট পেতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে।এদিকে গত ২৭ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখ সোমবার প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পিসিআর (পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশন) মেশিন ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পৌঁছেছে। নতুন ল্যাবে এসব মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে।আগামী সপ্তাহ থেকে এ ল্যাবে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।চমেক অধ্যক্ষ বলেন, করোনা শনাক্তের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।এরইমধ্যে পিসিআর মেশিনটিও পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদরের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ চলছে। ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও রোগীদের বসার স্থান, নমুনা সংগ্রহের রুম, ওয়াশ রুমসহ বিভিন্ন কক্ষ তৈরির কাজও শেষ হয়েছে।এখন মেশিনটি স্থাপনের পর কিট এলেই করোনা শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ২৭ দিনে ৩৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।২৬ মার্চ থেকে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল একদিনেই ১১ জনের করোনা ধরা পড়ে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় এক শিশুসহ তিনজন রোগী মারা গেছেন। আক্রান্ত দু’জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সোমবার বিআইটিআইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দু’জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৯ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল